ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উৎসে কর পরিদর্শনে এনবিআরের কড়াকড়ি: স্থগিত বা প্রত্যাহারের দাবি শীর্ষ আট চেম্বারের

banglaprime24
July 23, 2026 8:11 pm
Link Copied!

দেশের যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর কর্মকর্তাদের বিনা বাধায় প্রবেশ, কাগজপত্র তলব এবং ডিজিটাল রেকর্ড জব্দের মতো ক্ষমতা দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা পাঁচ দফা নির্দেশনা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে তীব্র অসন্তোষ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ আটটি চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিরা যৌথভাবে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উদ্ভূত আতঙ্ক দূর করতে অবিলম্বে বিতর্কিত ওই আদেশ স্থগিত বা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই এনবিআরের পক্ষ থেকে দেশের সব কর অঞ্চলে উৎসে কর আদায় ও তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগের কথা বলা হয়। এই ধারার আওতায় কর কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনা বাধায় প্রবেশ, হিসাবের বই ও ব্যাংক বিবরণী তলব, কম্পিউটার বা ক্লাউড সার্ভারের ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা, এমনকি প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড ভেঙে তথ্য সংগ্রহ এবং নথিপত্র সাময়িকভাবে জব্দ করার মতো কঠোর ক্ষমতা পেয়েছেন। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই নির্দেশনার পরই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প মহলে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, আয়কর আইনের এই কঠোর ধারার প্রয়োগ সম্পর্কে দেশের ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বৃহৎ কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারাই সুনির্দিষ্টভাবে অবগত ছিলেন না। হুট করে এ ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করায় উৎপাদন ও সেবা খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ও এক কোটি কর্মসংস্থানের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে বর্তমান স্থবির অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন, যা কেবল সরকার ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমেই সম্ভব।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী করপোরেট রেকর্ডের গোপনীয়তা রক্ষা, ২০১৬ সালের বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং দেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের আইনগত অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসব আইনি সুরক্ষা ও সুরক্ষামূলক বিধান বিবেচনায় না নিয়ে হঠাৎ করে এমন কড়াকড়ি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে তা বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্যবসায়ী সমাজ বরাবরই কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে সমর্থন করে আসছে, তবে তা ভীতি প্রদর্শন বা ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে নয়, বরং করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

এনবিআরের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার–উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম। ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে এনবিআর কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ব্যবসায়ী সমাজকে আস্থায় নিয়ে রাজস্ব আহরণের পথ সুগম করবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।