কক্সবাজার শহর এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেই একটি বিলাসবহুল জিপ গাড়ি থেকে প্রায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ওবায়দুল হাসান (৪১) নামের এক সাবেক সেনাসদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি দামি ল্যান্ড ক্রুজার জিপে করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাচার করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে চেকপোস্ট বসানো হয়। তল্লাশির সময় জিপটি টার্মিনালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ধাওয়া করে গাড়িটি আটকে ফেলতে সক্ষম হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়িটির পেছনের সিটের নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত ওই বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার জিপটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অফিসিয়াল স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এবং তল্লাশি চৌকিগুলো সহজে পেরিয়ে যাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ওবায়দুল হাসান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক ল্যান্স করপোরাল ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে গাজীপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি বৃহস্পতিবার সকালেই গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রাতে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছিলেন। তবে গাড়ির ভেতরে এত বড় চালানের ইয়াবা কীভাবে এল, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং এ বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি বা সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওবায়দুল হাসানকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এর আগে গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচারের সময় তিনজনকে আটক করেছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই অভিযানে ছয় হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো বা স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

