জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একটি চলমান ও ধারাবাহিক বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পরিষদের (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, যারা অতীতে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের শক্তিকে তোয়াক্কা করেনি বা তাদের অধিকারকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছে, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাদের ঠিকানা হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
২৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বিগত স্বৈরাচারী ও জনবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের একক সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত চেতনার ফসল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পালাবদল ছিল না, এটি ছিল একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের দীর্ঘমেয়াদী লড়াই। এই লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ প্রজন্ম এবং ছাত্রদের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসই প্রমাণ করে দিয়েছে। বক্তৃতায় তিনি ছাত্র সমাজের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্র অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। নাহিদ ইসলামের এই হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ও দাবির বিষয়টি আরও একবার জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে।

