ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জুলাই অভ্যুত্থানের সুফল পেতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক রূপান্তর অপরিহার্য

banglaprime24
July 27, 2026 10:18 pm
Link Copied!

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান কেবল কোটা সংস্কারের মতো কোনো সাধারণ দাবির মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি; এটি ছিল দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন, বৈষম্য এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত প্রতিরোধ। এই অভূতপূর্ব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও এর দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গভীর ও মৌলিক রূপান্তর ঘটাতে হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪ স্মরণানুষ্ঠান’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণ শিক্ষার্থী ও সংগঠকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি স্মরণসভা ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল আগামীদিনের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের অমূল্য আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় একটি প্রামাণ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং জুলাইয়ের উদ্দীপনামূলক থিম সংগীত, যা উপস্থিত দর্শকদের সেই উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সভার মূল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আইন প্রণয়ন বা সংবিধানের যান্ত্রিক সংশোধন করলেই চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং মানুষের মানসিকতার ভেতর একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী পরিবর্তন। তিনি আক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, অতীতেও দেশে গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষার জন্য বিভিন্ন সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে সেগুলো বারবার খর্ব বা বাতিল করেছে। কাগজে-কলমে চমৎকার আইন থাকাটাই শেষ কথা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের মাঝে গণতান্ত্রিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জবাবদিহিতা থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা ভৌগোলিক সীমানার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, এর মূল শক্তি নিহিত থাকে দেশের সঠিক ইতিহাস, জাতীয় স্মৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্যে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে প্রখ্যাত চিন্তক ও এনএসইউর মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, গণতন্ত্রের মূল শর্ত কেবল পাঁচ বছর পর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নয়, বরং মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সমতার সুনির্দিষ্ট মেলবন্ধন তৈরি করা। কোনো সমাজে যদি নাগরিকদের অধিকার এবং সুযোগের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করে, তবে সেখানে প্রকৃত স্বাধীনতা কখনোই অর্থবহ হতে পারে না। তিনি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারমূলক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন শিক্ষা খাতের চরম বিপর্যয়কে। স্বাধীনতার দীর্ঘ এত বছর পরেও দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য একটি মানসম্মত ও আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরে কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে সামাজিক খাতের সংস্কারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্ম এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে চিহ্নিত করে তিনি সতর্ক করেন যে, কেবল সরকার বদল বা অগভীর কিছু সংস্কার করলেই এই কাঠামোগত সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

জাতীয় নাগরিক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন তাঁর বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাস নিজেরাই সাহসিকতার সাথে রচনা করছে, যা ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। পাশাপাশি, জুলাই অভ্যুত্থানে নারী সমাজের সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, এই মুক্তি সংগ্রামে নারীদের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব এখনো পর্যন্ত যথাযথ জাতীয় মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি পায়নি। এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাইফিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে নতুন করে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগকে হাতছাড়া না করে সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সহ-উপাচার্য নেছার উদ্দিন আহমেদের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই স্মরণানুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর। এছাড়া প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ও রিয়াসাত খান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাঁদের চোখের সামনে দেখা জুলাইয়ের দিনগুলোর রোমহর্ষক ও প্রেরণাদায়ক স্মৃতিচারণা করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।