ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিজিটাল মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের গান ও শিল্পের অভিনব প্রতিবাদ

banglaprime24
July 27, 2026 10:19 pm
Link Copied!

সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশিংয়ের (মোরাল পুলিশিং) বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষক সমাজ এক ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক প্রতিবাদের নজির স্থাপন করেছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হওয়া ডিজিটাল হেনস্তার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকারা আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’র সঙ্গে রিল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই আন্দোলন কেবল একটি গান শেয়ার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি পরিণত হয়েছে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষক সমাজের স্বাধীনতাবোধের পক্ষে এক শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে, যখন সিলেটের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিউটি রানী পাল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নীল শাড়ি পরে বৃষ্টির দিনে হাঁটার একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন। ভিডিওর পটভূমিতে বাজছিল ‘ডিফারেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের বিখ্যাত সেই নস্টালজিক গানটি। অত্যন্ত সাধারণ ও সাবলীল এই ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পরপরই নেটিজেনদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়ে। কমেন্ট বক্সে শুরু হয় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মোরাল পুলিশিং। একজন নারী ও শিক্ষক কেন রঙিন শাড়ি পরে বৃষ্টিতে ভিজবেন কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির ভিডিও শেয়ার করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে তাঁর শিক্ষকতা পেশার চরিত্র, যোগ্যতা ও মর্যাদাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এই ঘটনাটি সমাজে নারী স্বাধীনতা ও পেশাজীবী নারীদের ওপর চলমান অদৃশ্য সাইবার নিপীড়নের বাস্তব চিত্রটিকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।

তবে এই ডিজিটাল হেনস্তার প্রতিবাদে শিক্ষকেরা কোনো ধরনের সহিংস পথ বা ঐতিহ্যবাহী আন্দোলনের রাস্তা বেছে নেননি। তাঁরা ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ বা উগ্র স্লোগানের পরিবর্তে বেছে নেন শিল্প ও প্রতিবাদের এক দারুণ নান্দনিক ভাষা। সারা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ওই একই গান ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে নিজেদের রিভ ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। পুরুষ সহকর্মীরাও পিছিয়ে থাকেননি; ঢাকা, বগুড়া, কুমিল্লা ও বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকেরা হেঁটে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বা গান গেয়ে এই সংহতি মিছিলে অংশ নেন। গোপালগঞ্জের এক শিক্ষক শিশুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করে শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব ও আনন্দময় পাঠদান পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন। একইভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষিকারা সমুদ্রসৈকতে হেঁটে বা শিশুদের সঙ্গে স্নেহের মুহূর্তের ভিডিও পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন যে, শিশুরা যখন ক্লাসরুমে নাচ-গান শেখে, তখন শিক্ষকেরা কেন আনন্দ প্রকাশ করতে পারবেন না।

সমাজবিজ্ঞানী ও তাত্ত্বিকদের মতে, এই আন্দোলন ফরাসি দার্শনিক জাক র‍্যানসিয়েরের ‘অ্যাস্থেটিকস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিবাদের সৌন্দর্যের ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়। যখন কোনো সামাজিক আন্দোলন নতুন রূপকল্প ও শিল্পসম্মত ভাষার জন্ম দেয়, তখন তা দমন-পীড়নের ভাষাকে অকার্যকর করে দেয়। সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গ্রাফিতি ও স্লোগানের যে নান্দনিক রূপ দেখা গিয়েছিল, শিক্ষকদের এই ডিজিটাল সংহতিও ঠিক তেমনি এক শান্তিপ্রিয় ও জোরালো প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করেছে। বিখ্যাত নারীবাদী তাত্ত্বিক বেল হুকসও মনে করেন, প্রান্তিক বা শোষিত মানুষের জন্য শিল্প ও সৌন্দর্য সৃষ্টি করা নিজেই এক ধরনের প্রতিরোধ। আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নানা বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হলেও তাঁরা আনন্দময় শিক্ষার আধুনিক পদ্ধতিতে শিশুদের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। কিন্তু সমাজের একটি উগ্র মানসিকতা যখন সেই আনন্দ ও সৃজনশীলতাকে ধর্মীয় বা নীতিগত নিক্তিতে মেপে আক্রমণ করে, তখন তা কেবল শিক্ষকের ওপর নয়, বরং শিশুমনের স্বাভাবিক বিকাশের ওপরও বড় আঘাত হয়ে আসে।

সংবিধান ও আইনগত দিক থেকেও একজন শিক্ষক তাঁর পেশাগত পরিচয়ের বাইরে একজন স্বাধীন নাগরিক। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ কিংবা ২০১৯ সালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বা ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যদি না তা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বা দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায়। বিউটি রানী পালের ভিডিওতে এমন কোনো অসংগতি ছিল না, যা বিধিমালা লঙ্ঘন করে। অথচ তাঁকে যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিচর্চা ও নারীদের স্বাধীন চলাচলের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দেশের শিক্ষক সমাজের এই সম্মিলিত ও নান্দনিক প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে, সমাজে অশুভ মানসিকতা ও মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।