রাজধানীর মিরপুরে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নাসিমা বেগম (৪৪) এবং মো. ফিরোজ (৪৩)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়াল ঘেঁষে টিসিবির ট্রাক থেকে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সামান্য কিছু টাকা সাশ্রয়ের আশায় নিম্ন আয়ের বহু মানুষ সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কলেজের পুরোনো সীমানা প্রাচীরটি লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের ওপর ধসে পড়ে। এতে মুহূর্তেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন ইটের স্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত দেয়ালের ইট সরিয়ে চাপা পড়া আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা নাসিমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর এক পুরুষ মারা যান, যাঁকে পরে মো. ফিরোজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে রাজিয়া বেগম, মনোয়ারা বেগম ও মোশাররফ হোসেন নামের তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নাসিমা বেগম মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন এবং ইউসেপ মিরপুর টেকনিক্যাল স্কুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে। তাঁর বেতনের সামান্য অর্থ দিয়ে সংসার চালানো এবং ছোট মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। এই আর্থিক অনটনের মাঝেই একটু সাশ্রয়ের জন্য তিনি টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অপর নিহত মো. ফিরোজ মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধসে পড়া সীমানা প্রাচীরটিতে কোনো ধরনের বিম বা কলামের ব্যবহার ছিল না। সম্পূর্ণ ইট দিয়ে নির্মিত দেয়ালটি অত্যন্ত পুরোনো ছিল এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলটি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রেখেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার সংগ্রাম ও এ ধরনের অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা নগরবাসীর মনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

