ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রপতির পদে থাকাকালীন সুরক্ষার মেয়াদ শেষে আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

banglaprime24
July 28, 2026 1:53 pm
Link Copied!

সচিবালয়ে সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সরকারের নীতি, আইনগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভাবমূর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেন। ব্রিফিংকালে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা ও পদপরবর্তী জবাবদিহিতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন উত্থাপন করলে উপদেষ্টা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি সরাসরি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া বা আইনি পদক্ষেপের আওতায় আসবেন না। তবে এই মেয়াদ শুরু হওয়ার পূর্বে অথবা পদের দায়িত্ব সমাপ্তির পরে কোনো অপরাধ বা অসদাচরণের অভিযোগ উত্থাপিত হলে, তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বিষয়টির আইনি সূক্ষ্মতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দায়মুক্তি সংক্রান্ত ধারণাটি নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্পষ্টতা বা ভুল ব্যাখ্যা বিদ্যমান। সাংবিধানিক বিধান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং এটি একটি সর্বজনীন আইনি নীতি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই নিয়ম কেবল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, বরং যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য হবে। পদে থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান হিসেবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও মর্যাদা রক্ষায় সাময়িক আইনি বাধা থাকলেও, দায়িত্ব পালনের আগে বা পরের যেকোনো অনিয়ম, অনৈতিক আচরণ বা আইন লঙ্ঘনের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে পাবলিক সার্ভিস ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অবতারণা হয়। ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে সম্প্রতি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন উপদেষ্টা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচনকালীন ভূমিকা জড়িত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিদ্যমান নিয়ম তুলে ধরেন। উপদেষ্টা জানান, বিদ্যমান সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের এই আইনানুগ এখতিয়ার রয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার চাকরিজীবন ২৫ বছর পূর্ণ হলে জনস্বার্থে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। এ ধরণের প্রশাসনিক আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পৃথক কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানেরও বাধ্যবাধকতা থাকে না।

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সরকারের নীতিগত যে সিদ্ধান্ত আগেই গ্রহণ করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বহাল রয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অবহিত করেন।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উক্ত সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস জোটের পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্র নয়; বরং সম্মেলনে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না বা প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। যদি শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়, তবে সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধি দলের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।