দেশে একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে সম্পাদক সমাজ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সরকার ও গণমাধ্যমের যৌথ প্রয়াসে কীভাবে একটি আধুনিক এবং গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী করতে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সরকারকে সঠিক পথে চালিত করার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে একই সঙ্গে দেশের অগ্রগতি ও জনগণের স্বার্থে নেওয়া সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোকেও সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। সরকারের দায়িত্বশীল মহল মনে করে, এ ধরনের দ্বিমুখী ও মুক্ত আলোচনা দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চাকে বহুদূর এগিয়ে নেবে।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত প্রতিনিধিদলের মধ্যে আরও ছিলেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম এবং দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নিজেদের মতামত প্রধানমন্ত্রীর সামনে পেশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিষয়াবলি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়নের যে কাজ চলমান রয়েছে, সেটিকে সর্বজনগ্রাহ্য করতেই এই নৈশভোজ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। এ নীতিমালার মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো টেকসই নীতিমালা ও আইনি সুরক্ষার অভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আসছিল। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সম্পাদকদের সঙ্গে বসে একটি সময়োপযোগী নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ গণমাধ্যম ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সরকার ও সম্পাদক পরিষদের এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রসার ও মুক্ত গণমাধ্যমের ভিত মজবুত করতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

