জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচারিক কার্যক্রম আবারও স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক ছুটিতে থাকায় আদালত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী ৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, এদিন সকালে মতিউর রহমানকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে এজলাসে হাজির করা হয়নি। বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তাকে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা এই মামলার বিচার শুরু হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
দুদকের দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতির বিবরণ উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও নানা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মোট ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমান এবং তাঁর পারিবারিক দুর্নীতির বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণ ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও আয়ের উৎসের বিষয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাঁর সম্পদের হিসাব নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক মতিউর রহমান ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে।

