রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা হাতিরঝিলে আনসার সদস্যদের সাহসিকতা ও চরম তৎপরতায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক মা ও তার ১১ মাস বয়সী শিশুপুত্র। এক কোলে অবুঝ শিশুকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার সময় টহলরত আনসার সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। আনসার বাহিনীর দায়িত্বশীল এই পদক্ষেপে মা ও শিশু দুজনই অলৌকিকভাবে অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে হাতিরঝিল এলাকার রাজউক প্রজেক্ট অংশে নিয়মিত টহল দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আনসার সদস্য জাহিদুল ও রেদওয়ান। দায়িত্ব পালনকালে তারা হঠাৎ দেখতে পান, এক নারী তার কোলে থাকা ১১ মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহনের সামনে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ধেয়ে যাচ্ছেন। বিপদ মুহূর্তের মধ্যে আঁচ করতে পেরে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দুই আনসার সদস্য দ্রুত ছুটে যান এবং শেষ মুহূর্তে ওই নারীকে টেনে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।
উদ্ধারের পর মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত থাকা ওই নারী কোনোভাবেই শান্ত হতে চাইছিলেন না। তিনি উচ্চস্বরে ‘আর বাঁচতে চান না’ বলে আকুতি জানাচ্ছিলেন এবং সড়ক থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় আনসার সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চালান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় র্যাব-৩-এর একটি টহল দল। র্যাব ও আনসার সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টায় ওই নারীকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয় এবং মা-শিশু উভয়কে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে হাতিরঝিল থানার ডিউটি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে আনসার সদস্যরা নারীটির পরিচয় উদ্ধার এবং তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। বেশ কিছু প্রচেষ্টার পর তার স্বামীর সন্ধান মেলে। খবর পেয়ে দ্রুত হাতিরঝিল থানায় উপস্থিত হন ওই নারীর স্বামী শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, তাদের স্থায়ী বাসস্থান নারায়ণগঞ্জে। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত গুরুতর হরমোনজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর তারা মালিবাগে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। বিকেলে সেখান থেকে কাউকে না জানিয়ে শিশুকে নিয়ে হঠাৎ বের হয়ে যান তিনি।
প্র প্রয়োজনীয় আইনি ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে আনসার সদস্য ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে মা ও শিশুকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় শরিফুল ইসলামের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। চরম আকস্মিক বিপর্যয়ের হাত থেকে প্রিয় স্ত্রী ও অবুঝ সন্তানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে শরিফুল ইসলাম আনসার বাহিনীর সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। ব্যস্ত ঢাকা শহরের ব্যস্ততম একটি পয়েন্টে আনসার সদস্যদের এই তড়িৎ ও মানবিক পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

