স্টাফ রিপোর্টার: আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর দাবি করে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশকের কাছে লিখিত প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে অবিলম্বে সংবাদটি প্রত্যাহার, অনলাইন সংস্করণ থেকে অপসারণ এবং একই গুরুত্বে তার প্রতিবাদলিপি প্রকাশের দাবি জানান।
প্রতিবাদপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে “ভোরের বাংলাদেশ” অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই তথ্য-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের আগে তার বা তার দপ্তরের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামতও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সংবাদটি সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে একপাক্ষিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত একটি ছবি ২০২৪ সালে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BPATC)-এ অনুষ্ঠিত একটি সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির টিকিট বিতরণ অনুষ্ঠানের ছবি। সেটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, সরকারি বিধি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই তিনি সব সময় দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রতিবাদপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত বিস্তারিত জবাবে তিনি প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের আলাদা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার কার্যক্রম, বদলি, সেমিনার আয়োজন, সরকারি অর্থ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রচলিত সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, কমিশন গ্রহণ, ঘুষ, বদলি বাণিজ্য, আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকাশিত সংবাদটি তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সুনাম, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সামাজিক ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তাই জনস্বার্থে সঠিক তথ্য প্রকাশের স্বার্থে ভুয়া সংবাদটি অপসারণ, প্রতিবাদলিপি প্রকাশ এবং মানহানিকর প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করবেন। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

