নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে আত তাকওয়া আশরাফী ফাউন্ডেশন। মানবসেবা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো তরুণ–তরুণীদের জন্য বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণ। ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কম্পিউটার বেসিক, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং, অফিস অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেক তরুণ-তরুণী আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের দক্ষতা গড়ে তুলছেন।
পরিবেশ রক্ষায় ফাউন্ডেশন নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রতিবছর রমজান মাসে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক প্রদান, শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে ফাউন্ডেশন। এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মুফতী সালাহ্ উদ্দীন আশরাফী বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। তাই আত তাকওয়া আশরাফী ফাউন্ডেশন শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। এ কারণে তরুণ–তরুণীদের বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।“
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তাই নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি সবুজ, বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র, এতিম, বিধবা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে খাদ্যসামগ্রী, ঈদ উপহার, শীতবস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু একদিনের সাহায্য নয়, বরং মানুষের জীবনমানের স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা।“
তিনি বলেন, “সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের আমরা মানবকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত, শিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আত তাকওয়া আশরাফী ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনা করে যাবে।“
ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিয়ে মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করাই প্রকৃত মানবতা। আত তাকওয়া আশরাফী ফাউন্ডেশন যেভাবে প্রযুক্তি শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি মানবিক, দক্ষ, সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

