দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফরাসি ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ সময় ধরে ফরাসি ডাগআউট সামলানো দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর থেকেই কোচ হিসেবে জিদানের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছিল। দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই হাই-প্রোফাইল নিয়োগ চূড়ান্ত হয়, যা বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী জিদান ফ্রান্সের জাতীয় বীর হিসেবে সমাদৃত। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার অবিশ্বাস্য নজির গড়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কৌশলবিদ হিসেবে নিজের নাম খোদাই করেন। ২০২১ সালে লস ব্লাঙ্কোসদের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে তিনি প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন।
দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্স দল দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছিল, যার মধ্যে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়া উল্লেখযোগ্য। তবে কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই দেশমের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় এবং অবশেষে তার দীর্ঘমেয়াদি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দেশমের রক্ষণাত্মক বা ফলভিত্তিক কৌশল থেকে বেরিয়ে জিদানের অধীনে ফরাসি দল আরও আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবলে অভ্যস্ত হতে পারে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বড় টুর্নামেন্টগুলোকে সামনে রেখে জিদানের কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আঁতোয়ান গ্রিজমানদের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গড়া বর্তমান ফরাসি স্কোয়াডকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি আধিপত্য বিস্তার করানোর ক্ষেত্রে জিদানের ট্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা কতখানি কাজে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফরাসি ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন, জিদানের এই আগমন শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই বাড়াবে না, বরং দলের ভেতরের শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

