অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হলেন দেশবাসী। সম্প্রতি দেশটির একটি হাসপাতালে প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের মাধ্যমে চারজন কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাদের ‘আইডেন্টিক্যাল কোয়াড্রুপলেটস’ বা অভিন্ন চতুষ্টয় বলা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই চার শিশু বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তবে প্রাকৃতিকভাবে এভাবে চার সন্তানের জন্ম হওয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এই দম্পতির জন্য গর্ভাবস্থার খবরটি ছিল এক বিশাল বিস্ময়ের। সাধারণত কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি বা আইভিএফ (IVF) ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে চার সন্তান গর্ভে ধারণ করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ—গাণিতিকভাবে এই হার প্রায় সাত লাখ গর্ভাবস্থায় মাত্র একবার। এমন অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হওয়ায় পরিবারটি যেমন বিস্মিত, তেমনি চিকিৎসক দলও একে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
নবজাতকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, এমন ক্ষেত্রে মা ও শিশুদের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সাধারণত গর্ভাবস্থার ৩৪ থেকে ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের প্রসব করানো হয়। জন্ম নেওয়ার সময় শিশুদের ওজন ও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU) বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। সৌভাগ্যবশত, কোনো বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, অভিন্ন চতুষ্টয়রা একই ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়, যার ফলে তাদের ডিএনএ গঠনও প্রায় একই থাকে। এই ধরনের শিশুদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া সাধারণ যমজ শিশুদের চেয়েও আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। পুষ্টি চাহিদা থেকে শুরু করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবকিছুতেই বাড়তি মনোযোগ প্রয়োজন। পরিবারটির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে তারা এই নতুন অতিথিদের স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে বিরল বলে অভিহিত করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক সরঞ্জাম এবং দক্ষ গাইনি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই জটিল গর্ভাবস্থা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া বর্তমান চিকিৎসা প্রযুক্তির সক্ষমতারই প্রমাণ। চার শিশুকন্যা এবং তাদের মা সুস্থ থাকায় এটি এখন ওই হাসপাতালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন বিরল ঘটনা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যা প্রসূতিবিদ্যার গবেষণায় নতুন তথ্য সংযোজন করতে পারে।

