বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চলতি সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ শুক্রবারই তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশের রাজনীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিগত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক মহলে চলা গুঞ্জনের পর এই প্রতিবেদন পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে তাঁর পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। সূত্রগুলোর মধ্যে একটির দাবি, গত মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। স্পর্শকাতর এই বিষয়টির কারণে সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার যেকোনো সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আলংকারিক হলেও, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এই পদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। গত বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের দায়ে পলাতক শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ওপর নতুন করে রাজনৈতিক ও জনচাপ সৃষ্টি হয়।
ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর বর্তমান প্রশাসনের ওপর সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জোরালো হতে থাকে। যদিও এর আগে গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই খবরের বিষয়ে বঙ্গভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী করণীয় নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, নতুন ও স্থায়ী কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সম্ভাব্য পদত্যাগ দেশের শাসনব্যবস্থা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী শুক্রবারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ।

