রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং সড়কপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ তাদের চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করেছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সোমবার একদিনের অভিযানে মোট ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসাথে ট্রাফিক নিয়ম না মানা ৩৯৪টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৩১৪টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী। তিনি জানান, সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীর আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে মতিঝিল এলাকায়, যেখানে মোট ২৯৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গুলশান বিভাগে ২৫১টি, তেজগাঁও বিভাগে ১৮০টি, উত্তরা বিভাগে ১৭৪টি, ওয়ারী বিভাগে ১৬৬টি, মিরপুর বিভাগে ১৫৩টি, লালবাগ বিভাগে ৯৪টি এবং রমনা বিভাগে ৬৯টি মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে। মূলত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলের চালকরা এই মামলাগুলোর মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি ছিল অত্যন্ত কড়া।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই ধরনের অভিযান রাজধানীবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যত্রতত্র পার্কিং, উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং লাইসেন্সবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা বদ্ধপরিকর। নগরীতে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ এবং প্রায়শই ঘটছে এমন ট্রাফিক আইন অমান্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এই আইনি কঠোরতা অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মামলার মাধ্যমেই ট্রাফিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং সড়ক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার মানসিকতাও সমান জরুরি। তবে ডিএমপির এই ব্যাপকভিত্তিক অভিযান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ বিভাগ তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছে। আগামী দিনগুলোতে এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সড়কে অরাজকতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

