রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সেলিমকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত ১৯ জুলাই সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুল সোহাগ (২৭) এবং মিজানুর রহমান মিজানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের সময় নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ। তিনি জানান, ঘটনার দিন বেলা তিনটার দিকে তেজগাঁও এফডিসির পুরাতন গেট সংলগ্ন এলাকায় আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেলিমের সঙ্গে আসামিদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে আসামিরা আম কাটার ধারালো চাকু দিয়ে সেলিমের শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। র্যাব জানায়, এই হামলার নেপথ্যে রতন নামের আরেক ব্যক্তির প্ররোচনা ও নির্দেশ ছিল। রতনকে আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে র্যাবের গোয়েন্দা দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও ভেজাল ওষুধ সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ভেজাল ওষুধ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও ছিল। অপরদিকে, প্রধান আসামি মকবুলের বিরুদ্ধেও মাদক ও দস্যুতার প্রচেষ্টাসহ তিনটি মামলা রয়েছে এবং অতীতে তিনি তিনবার মাদক মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত সেলিমের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচজনকে নামীয় আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করার পর র্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরলেও পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার। র্যাব জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

