আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংসদ অধিবেশনে বা নির্বাচনী মাঠে নামার বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল বিরাজ করছে। তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আইনি জটিলতার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি বিশেষ বেঞ্চ এই বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে এই নির্দিষ্ট আসনে বিএনপির নির্বাচনী কৌশল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের গতিপ্রকৃতি।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্টের বিভিন্ন পর্যায়ে এই প্রার্থীতার বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। অন্যদিকে, রিটকারী পক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাঁর প্রার্থিতার বিপক্ষে বিভিন্ন আইনি ও দাপ্তরিক ত্রুটির কথা তুলে ধরেন। নিম্ন আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষই আপিল বিভাগে শরণাপন্ন হয়, যার ফলে মামলাটি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।
ফটিকছড়ি আসনটি সবসময়ই জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, এবং সরোয়ার আলমগীর স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন। ফলে তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকলে এই আসনে ভোটের লড়াই ত্রিমুখী বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীত দিকে, আদালত যদি তাঁর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করে, তবে বিএনপিকে বিকল্প প্রার্থী বা নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে হতে পারে, যা স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
আগামীকালের রায়কে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উভয় পক্ষের সমর্থকরাই রায় নিজেদের পক্ষে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, এবং এই আইনি জটিলতা নিরসন হলে নির্বাচনী প্রচারণায় আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সরোয়ার আলমগীর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না।

