ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বল (সিআরপিএফ) বিমানযোগে দিল্লিতে উড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে টানা কয়েক দিন ধরে চলা এই প্রতিবাদ প্রতিদিন আরও জোরদার হচ্ছে এবং এর রেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে তরুণদের একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ সমাজকেও ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি, বরং যন্তর মন্তরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই আন্দোলন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রার যোগ করেছে। বিরোধী দলগুলোর একাধিক শীর্ষনেতা আন্দোলনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব তরুণ রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন বা উদাসীন ছিলেন, এই ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ তাদের রাজপথমুখী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বিক্ষোভে সামিল হওয়ায় আন্দোলনটি কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যাপক জনভিত্তি লাভ করছে।
ক্রমবর্ধমান ভিড় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দ্রুততম সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিআরপিএফ জওয়ানদের দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। রাজধানীজুড়ে ও বিশেষ করে যন্তর মন্তরমুখী রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড, জলকামান ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও এই আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে এবং বিদেশেও সংহতি সমাবেশের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে এই সংকট নিরসন করে, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক মহলে গভীর দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

