ঢাকাWednesday , 22 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে ছড়িয়ে পড়ছে হাম: গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ

banglaprime24
July 22, 2026 3:04 pm
Link Copied!

দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ছয় শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের অধিকাংশের বয়সই পাঁচ বছরের নিচে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই শিশুদের বড় একটি অংশ সময়মতো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় নিয়মিত টিকা পায়নি, যার ফলে সংক্রমণটি তাদের শরীরে দ্রুত মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট দুর্গম এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং শহরের ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। গত একদিনে যে ছয় শিশু প্রাণ হারিয়েছে, তাদের কয়েকজনকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানান, হামের মূল সংক্রমণের পাশাপাশি তীব্র নিউমোনিয়া, অতিরিক্ত পানিশূন্যতা এবং মারাত্মক অপুষ্টির মতো জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন নতুন আক্রান্ত শিশু ভর্তি হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি ভারী হয়ে উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনো শিশু আক্রান্ত হলে তার শরীরে তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি ও সর্দির মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে পুরো শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ বের হয়। সঠিক পুষ্টির অভাব এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পেলে এই রোগ শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় যেসব শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ পড়েছিল, তারাই এখন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারা দেশে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পূরক টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘মিসড-আউট’ বা বাদ পড়া শিশুদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে হামের কোনো লক্ষণ দেখা মাত্রই তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগ প্রতিরোধে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।