ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হবিগঞ্জের প্রবেশমুখে এনসিপির গাড়িবহড়ে পুলিশের বেরিকেড, ১৪৪ ধারা ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় মহাসড়ক স্থবির

banglaprime24
July 29, 2026 7:26 pm
Link Copied!

মৌলভীবাজারের সীমানা অতিক্রম করে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের বহনকারী সংবর্ধনা ও সমাবেশমুখী গাড়িবহর দুই দফায় আটকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রথম দফায় শ্রীমঙ্গলে পুলিশের দেওয়া বাধা পেরিয়ে সামনে এগোলেও পরবর্তীতে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বিশালাকার যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলে পুলিশ। জেলা সদরে এনসিপি ও জেলা ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির পরই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় ‘চা–কন্যা’ ভাস্কর্যের সামনে প্রথমবার এনসিপির বহরটি বাধার মুখোমুখি হয়। সেখানে ক্ষণিকের অবরুদ্ধ অবস্থা কাটিয়ে নেতারা হবিগঞ্জের সীমানায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবলের কামাইছড়া পয়েন্টে পুনরায় তাদের পথরোধ করা হয়। স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) ও স্থানীয় থানার প্রায় দুই শতাধিক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য সড়কে বাস আড়াআড়ি রেখে পুরো চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও তা উপেক্ষা করে এনসিপির নেতা-কর্মীরা রাজপথেই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

আটকে পড়া এই বহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিকেডের সামনে অবস্থানকালে এনসিপির অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ করা হয়েছে, তারা তা থেকে বহু দূরে অবস্থান করা সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনিক কৌশল রাজনৈতিক দলগুলোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরিপন্থী বলেও তিনি দাবি করেন।

মূলত হবিগঞ্জ পৌর শহর এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এনসিপির পক্ষ থেকে বিকেল তিনটায় হবিগঞ্জ সদরে একটি প্রকাশ্য সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু একই সময়ে জেলা ছাত্রদলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির শঙ্কা দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে ও জননিরাপত্তা রক্ষার্থে জেলা প্রশাসন পৌরসভা ও এর আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকা জুড়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে এনসিপি তাদের মূল সমাবেশ স্থগিত করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় বিকল্প স্থানে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু মহাসড়কে পুলিশি কঠোর অবস্থান বজায় থাকায় নেতারা তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান না করলেও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আঞ্চলিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মহাসড়কে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই মহাসড়কের ওই পয়েন্টে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে সমগ্র এলাকায় থমথমে রাজনৈতিক আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।