পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যাপক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল, বৈদ্যুতিক ফ্যান, টেলিভিশন ও ফ্লাস্কের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথিপত্র লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াখালী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সভা শেষে রাত দশটা থেকে এগারোটার দিকে সবাই তালা লাগিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। ওই রাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যালয়ের তালা ভাঙা দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মাছুয়াখালী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান যে বসার চেয়ার, লেখার টেবিল, সিলিং ফ্যান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিখোঁজ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও দশমিনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, রাতের বেলা ভারি বৃষ্টির সুযোগে দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয় টার্গেট করে এ ধরনের চুরি শুধু মালামাল লুট নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নোমান মাস্টার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ব্যস্ততম মূল সড়কের পাশের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনকালীন কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ওয়ার্ড পর্যায়ে ওই অস্থায়ী কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সেখান থেকে কয়েকটি চেয়ার ও ফ্যানসহ কিছু মালামাল খোয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে এবং চোরাই মাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

