বর্তমান নতুন সংবাদমাধ্যমের যুগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য (Misinformation) ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধন এবং ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে আটটায় রাজধানীর বনানিতে ‘বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড’ (BANGLADESH FORWARD)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানটিতে Strategic Partner হিসেবে ছিল ‘স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি ফোরাম (SPF) এবং স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতায় ছিল ‘
ফিউশন হলিডেজ’ ।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অপতথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ১০টি মূল করণীয় ও সুপারিশ তুলে ধরেন:
১. স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি:প্রান্তিক পর্যায়ে অপতথ্য দ্রুত ছড়ায়। তাই জেলা ও উপজেলা সংবাদকর্মীদের জন্য নিয়মিত ফ্যাক্ট-চেকিং, তথ্য যাচাই ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণে সরকার ও গণমাধ্যমকে যৌথ ভূমিকা নিতে হবে।
২. মতাদর্শনির্ভর সংবাদ ও রাজনৈতিক অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণ: রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন বন্ধে স্পষ্ট নীতিমালা ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় আনা:জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
৪. সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ:অপসাংবাদিকতা রোধে পেশাদার সাংবাদিকদের সনদ প্রদান এবং ন্যূনতম যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বীকৃতির ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫. তথ্য সরবরাহ সহজীকরণে সরকারি উইং স্থাপন:ভুল তথ্য ও ব্যাখ্যার ঝুঁকি কমাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘প্রেস উইং’ বা ‘প্রেস সেল’-এর মাধ্যমে অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ভুয়া আইডি ও পেজ নিয়ন্ত্রণ: মেটাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সাথে সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচয়ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৭. সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন:
সরকার, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের যৌথ অংশগ্রহণে অপতথ্য বিরোধী একটি জাতীয় সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি।
৮. নিরাপদ অনলাইন কমিউনিটি ও ফ্যাক্ট-চেকিং:
ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে সচল রাখার পাশাপাশি এসব প্ল্যাটফর্ম যেন নিজেরা অপপ্রচারের শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
৯. আইসিটি বিভাগ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সক্রিয়তা:সংগঠিতভাবে মিসইনফরমেশন ছড়ানো চক্র ও ভূঁইফোড় পোর্টালের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে।
১০. জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি: অপতথ্য চিহ্নিতকরণ ও উৎস যাচাইয়ের দক্ষতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘ডিজিটাল সাক্ষরতা’ প্রোগ্রাম চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম এবং সাইবার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন,
Bangladesh Forward এবং
Strategy & Policy Forum এর পক্ষে
- বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের উপদেষ্টা ফজলে রাব্বি খান।
- বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, ও এসপিএফের পরিচালক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেন রচী।
- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক জনি,
- বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের ডিরেক্টর ও মানিকগঞ্জ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মূর্তজা খান লোদী,
- বিএনপি এনালাইসিস সেলের সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান সবুজ
- বিএনপি মিডিয়া সেলের সাবেক সদস্য মশিউর শাফী,
- রিপ্লেমাইন্ডের সিইও
নাজমুল ইসলাম কনক, - দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মেহদী ইসলাম,
- ডেইলি স্টারের জাবি প্রতিনিধি সাকিব আহমেদ,
- বিডিনিউজ২৪ এর জাবি প্রতিনিধি আরিফুর রহমান সাদি
- প্রথম আলো এর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মমিন
- আগামীর সময় এর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি সোহেল হোসাইন
সহ প্রমুখ।

