আইনজীবী, মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করে যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এই নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির সময় জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া নিজেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৮ জুলাই রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এই তারকা। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি অতীতে বা বর্তমানে কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না এবং তাঁর কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। সম্প্রতি একটি বিশেষ ঘটনায় এক নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের সপক্ষে তিনি মানবিক ও আইনগত অবস্থান গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আপত্তিকর বার্তা পাঠানো শুরু হয়। এমনকি অজ্ঞাতপরিচয় বিভিন্ন নম্বর থেকেও তাঁকে হুমকিমূলক ফোনকল করা হচ্ছে বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে তিনি লক্ষ্য করছেন অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি তাঁর পিছু নিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তাঁকে সন্দেহজনকভাবে অনুসরণ করছে। এসব অবাঞ্ছিত ঘটনার কারণে বর্তমানে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কাপ্রকাশ করে তিনি পুলিশের কাছে আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতি জানিয়েছেন। মূলত সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় একজন সচেতন নাগরিক ও আইনপেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশের জেরে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সেলিব্রিটিদের হেনস্থা করার ঘটনা উদ্বেজনক হারে বাড়ছে। জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে জনসমক্ষে সরব হওয়া নারী পেশাজীবীদের সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে। পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আদালতের এই আদেশের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে পিয়া ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

