নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক রবিউল সিকদারকে (৩০) খুঁজছে পুলিশ। অভিযুক্ত রবিউল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং তিনি নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে শিশুটি বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে সে নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে প্রতিবেশী রবিউলের ঘরের মেঝেতে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের দরজা খোলা ছিল কিন্তু রবিউল সেখানে ছিলেন না। পরিবারের লোকজনের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিফ আকবর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নির্যাতনের ধরন নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিহত শিশুর চাচা মুজিবুর রহমান জানান, অভিযুক্ত রবিউল পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং নিজ ঘরেই একা থাকেন। তাদের পরিবারের দাবি, রবিউলই এই ঘৃণ্য অপরাধটি সংঘটিত করে আত্মগোপন করেছেন। এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়রা সোচ্চার হয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. রকিবুল হাসান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত রবিউল সিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিমগুলো কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বর্তমানে এলাকাটিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

