বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৬৭তম ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস্ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বগুড়ার এরুলিয়া এয়ারফিল্ডে অবস্থিত বিমানবাহিনী ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস্ স্কুলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতী কর্মকর্তাদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর বিমানবাহিনীর মোট ১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা সফলভাবে এই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও কঠোর প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ তার বক্তব্যে নবীন উড্ডয়ন প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঐতিহাসিক দিনের পর থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী উড্ডয়ন প্রশিক্ষক পরিবারের অংশীদার হলেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, পেশাদারিত্ব, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নিপুণ দক্ষতার মিশেলে আগামী দিনে দেশের নবীন বৈমানিকদের গড়ে তোলা হবে। প্রধান অতিথি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে, এই প্রশিক্ষকদের নিখুঁত দিকনির্দেশনা এবং নিরলস অনুপ্রেরণায় দেশের আকাশসীমার অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একদল আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ বৈমানিক প্রস্তুত হবে, যারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন।
কোর্সের সার্বিক মূল্যায়নে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য স্কোয়াড্রন লিডার মির্জা মো. জুবাইর হোসেন চৌকস প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হন এবং তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘মফিজ ট্রফি’ প্রদান করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস্ স্কুলের অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পাঠ্যসূচির মান এবং কোর্সের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী উপস্থাপন করেন।
উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বগুড়া অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিমান পরিচালনার জন্য দক্ষ পাইলট তৈরির ক্ষেত্রে এই ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস্ স্কুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু কর্মকর্তা বিমানবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বগুড়ায় এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশের উত্তর জনপদে বিমানবাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

