যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে ভ্যাটের (VAT) হার কমানো হবে। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরকারের এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘটনা, আর এমন এক উত্তাল পরিস্থিতিতে বার্নহ্যামের এই সাহসী সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বমুখী চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। শীতকাল আসন্ন হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঘর গরম রাখা এবং বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক, ফলে বিদ্যুৎ বিলে এই ছাড় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি খরচ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে, যা পরিবারের সামগ্রিক বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের এই দ্রুত পদক্ষেপটি তার সরকারের জনমুখী নীতির একটি স্পষ্ট সংকেত। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই এমন একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার মূলত তার জনপ্রিয়তা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতারই প্রতিফলন। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট বাবদ আয়ের ওপর যে প্রভাব পড়বে, তা সামাল দিতে সরকার কী ধরণের বিকল্প কৌশল গ্রহণ করবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভ্যাট কমিয়ে সরকারি রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বিদ্যুৎ বিলের ওপর এই ভ্যাট হ্রাস শুধু সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে একটি প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সুবিধা কত শতাংশ হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্রিটেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহ্যামের এই প্রথম নীতিগত পদক্ষেপটি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

