সরকার এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায় যদি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তবে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে একটি দৃশ্যমান ও ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ খাতের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজতর করার উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা, ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং নীতিগত অসঙ্গতির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সহজ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বেসরকারি খাতের কোনো বিকল্প নেই এবং উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের অর্থনীতি যে ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য এই ধরনের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংলাপ অত্যন্ত জরুরি। বিডার এই আয়োজনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে রফতানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রসার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের মেধা ও যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে, যেখানে সরকার শুধু নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সভা শেষে ব্যবসায়িক নেতারা সরকারের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নির্দেশনাসমূহ মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হবে। দেশের ব্যবসায়ী সমাজও সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

