ঢাকাSunday , 26 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে হাওরের তীব্র স্রোতে প্রাণ হারালেন বাবা, কিশোরগঞ্জে শোকের ছায়া

banglaprime24
July 26, 2026 7:51 pm
Link Copied!

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পারিবারিক আনন্দের মুহূর্ত এক নিমিষেই পরিণত হয়েছে গভীর বিষাদে। করিমগঞ্জ উপজেলার হাসানপুর সেতু সংলগ্ন হাওরের প্রমত্তা স্রোতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেজ মেয়েকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি পিতা মো. বাছির উদ্দিনের (মিলন)। ভাসমান পানির প্রবল টানে চোখের সামনেই তলিয়ে যান তিনি। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের আকুল আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাতাস।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকায় কর্মরত মো. বাছির উদ্দিন পারিবারিক ছুটিতে বাড়ি এসে গত শুক্রবার স্বজনদের নিয়ে মিঠামইন হাওরে ঘুরতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী শারমিন আক্তার, তিন কন্যাসন্তান, ছোট বোন শিমুলা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন স্বজন। সারাদিন হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঘুরে বেড়ানোর পর বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদরে ফেরার পথে করিমগঞ্জের হাসানপুর সেতু সংলগ্ন পানিতে নামেন বাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন। এ সময় হঠাৎ হাওরের শক্তিশালী স্রোতের মুখে পড়ে তলিয়ে যেতে থাকে বাছিরের মেজ মেয়ে স্কুলছাত্রী সেমন্তী আক্তার। মেয়েকে বাঁচাতে মুহূর্তে পানিতে ঝাঁপ দেন বাছির। জীবনের সমস্ত শক্তি দিয়ে দুই-তিনবার ধাক্কা দিয়ে মেয়েকে নিরাপদ স্থানে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর স্রোতের প্রতিকূলে ভেসে থাকতে পারেননি। স্বজনরা পরনের ওড়না জোড়া দিয়ে ফেলে তাঁকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেও পানির তীব্র টানে তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় বাছির উদ্দিনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন নিজ বাড়িতে বাছির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের মূল উপার্জনের মাধ্যম বাছির উদ্দিনের এমন অকাল প্রয়াণে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বাছির ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর এই আকস্মিক বিয়োগে তিন কন্যা—মাহ্জুবা, সেমন্তী ও মাত্র দুই বছর বয়সী ছোট মেয়ে সাইয়ারা আক্তার এবং স্ত্রী শারমিন আক্তার পুরোপুরি বাক্‌রুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাছিরের প্রবীণ বাবা, অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক মো. আবু বাক্কার ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। তিনি অশ্রুসজল কণ্ঠে জানান, সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়া একজন পিতার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী ও বেদনার বিষয়। সকালে যে সন্তান হাসিমুখে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ নিয়ে ফিরতে হবে—এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না।

হৃদয়বিদারক এই মর্মান্তিক ঘটনার পাশাপাশি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাছিরের পরিবার। তিন কন্যাসন্তানের লেখাপড়া, সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ এবং ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দিশেহারা স্বজনেরা। নিহতের বোন শিমুলা আক্তারসহ স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, অনাথ হয়ে পড়া অবুঝ শিশুদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে এবং এই অসহায় পরিবারের ঋণের বোঝা লাঘবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পর্যটকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।