বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি ‘শ্রীকান্ত’ নিয়ে এক প্রাণবন্ত সাহিত্য আলোচনার আয়োজন করল দিনাজপুর বন্ধুসভা। গত ১৭ জুলাই বিকেলে দিনাজপুর প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এই পাঠচক্রে তরুণ পাঠকদের অংশগ্রহণে উপন্যাসের বিভিন্ন দিক ও মানবিক দর্শন উন্মোচিত হয়। আধুনিক ডিজিটাল যুগেও চিরায়ত এই সাহিত্যের আবেদন যে অটুট, তা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বন্ধুসভার সদস্যরা উপন্যাসের প্রথম পর্ব নিয়ে তাদের পাঠ-অনুভূতি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল শ্রীকান্তের জীবন দর্শন, ভ্রমণপিপাসু সত্তা এবং তৎকালীন সমাজবাস্তবতার নিপুণ চিত্রায়ণ। উপন্যাসটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং মানুষের চিরন্তন মনস্তত্ত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দলিল—এই বিষয়টির ওপর আলোচকরা গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, শ্রীকান্তের বিভিন্ন চরিত্র ও তাদের অন্তর্নিহিত গভীরতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন, যা পাঠচক্রটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
দিনাজপুর বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব সরকার তার বক্তব্যে জানান, ‘শ্রীকান্ত’ পড়ার পর জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, “বইটি পড়ার সময় মনে হয়েছে এটি কেবল সাহিত্যের পাতায় সীমাবদ্ধ কোনো আখ্যান নয়, বরং এটি জীবনকে নতুন করে দেখার একটি জানালা। সবার ভিন্ন ভিন্ন মতামত শোনার পর বইটি নিয়ে আরও নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।” নিয়মিত বই পড়ার এই অভ্যাস তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংগঠনের সভাপতি শবনম মুস্তারিন পাঠচক্রের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নিয়মিত পাঠচক্রের মাধ্যমে বন্ধুদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস, সাহিত্যচর্চা ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটবে। এই ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা পাঠকদের মধ্যে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ তৈরি করতে চাই, যা তাদের ভবিষ্যতে সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।”
উক্ত সাহিত্য আড্ডায় দিনাজপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন নেওয়াজসহ বন্ধু প্রাপ্তি, জান্নাতে রাইয়ান, শিলা, সজীব এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাহিত্য পাঠ ও আলোচনার এই চর্চা দিনাজপুর বন্ধুসভার নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ, যার মাধ্যমে তারা তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও মুক্তচিন্তার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শরৎচন্দ্রের অসামান্য এই সৃষ্টির ওপর আয়োজিত এই পাঠচক্রটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও আনন্দঘন আড্ডার আমেজ সৃষ্টি করেছিল।

