নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত একটি ফেডারেল ভবনের সামনে সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম অ্যান্ড্রু আরাবাকা, যিনি একজন সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধৃত ব্যক্তির কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা ওই এলাকায় বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ম্যানহাটনের ফেডারেল ভবনের বাইরের এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে শনাক্ত করেন। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে দুটি কুঠার, একটি বড় চাপাতি, তিনটি ধারালো ছুরি এবং প্রচুর পরিমাণে আতশবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, ওই ব্যক্তি ‘অ্যান্টি-আইসিই’ (Anti-ICE) বা অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের কার্যক্রমের বিরোধী মতাদর্শী। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল এজেন্সির কার্যক্রমের প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকেই তিনি এই উসকানিমূলক কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে ফেডারেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। অভিযুক্ত আরাবাকা একজন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনা সদস্য হওয়ায় তার এই অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্তকারীরা আরও গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও অবৈধভাবে অস্ত্র বহনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ম্যানহাটনের স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই ঘটনার পর ফেডারেল ভবনগুলোর চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও ওই ঘটনায় বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে এটি নাগরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এফবিআই খতিয়ে দেখছে যে তিনি এককভাবে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নাকি কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সাথে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সাবেক এই সেনাসদস্যের মানসিক অবস্থা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কর্মকাণ্ডের রেকর্ডও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, দোষী প্রমাণিত হলে তিনি দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে তার বিচারিক ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

