চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সাতজন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) একটি অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভিডিও চিত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখিত দুজনকে দেখা গেলেও বর্তমানে তাঁদের বা বাকিদের কারও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সংবাদকর্মী সকালে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় হেঁটে যাওয়া দুই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিও চিত্রে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী জিনসের প্যান্ট ও ছাপা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি এবং লাল পাঞ্জাবি পরা অন্য এক ব্যক্তিকে ব্যাগ মাথায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদকালে ওই দুজন নিজেদের আপন দুই ভাই—আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান বলে পরিচয় দেন। তাঁরা জানান, তাঁদের বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রামে এবং তাঁদের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী সানা। ভিডিওতে কথা বলার পরপরই তাঁদের একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওতে বক্তব্য প্রদানকালে ওই ব্যক্তিরা দাবি করেন, প্রায় আড়াই বছর আগে তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভোরের দিকে তাঁদের জীবননগর সীমান্ত এলাকার ‘পাটোয়ারী’ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁদের ভাষ্যমতে, একই সময়ে আরও পাঁচজন সদস্যকে একইভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে সীমান্ত পার হওয়ার পর বাকি পাঁচজনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দলের সঙ্গেও তাঁদের কোনো মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। তবে বিজিবির কর্মকর্তারা ভিডিওটির তথ্যের সঠিকতা নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন। মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, প্রচারিত ভিডিওটি তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত রেখার ভারতীয় অংশে ‘পাটোয়ারী’ নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব নেই। এছাড়া বিজিবির টহল দল ও গোয়েন্দা শাখা উল্লেখিত স্থান ও আশপাশের এলাকা অনুসন্ধান করেও ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের কোনো হদিস পায়নি। অন্যদিকে, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তগুলোতে মাঝেমধ্যেই বিএসএফের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত পুশ ইনের অভিযোগ ওঠে। ভৌগোলিক জটিলতা এবং সীমান্ত রেখার বিভিন্ন অরক্ষিত অংশকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা যাতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্তের সংবেদনশীলতা রক্ষায় বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

