ঢাকাMonday , 27 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পূর্ণিমায় কি সত্যিই মানুষের মন আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে? যা বলছে বিজ্ঞান

banglaprime24
July 27, 2026 10:17 pm
Link Copied!

পূর্ণিমার রাত মানেই এক অদ্ভুত জাদুকরী আলো, স্নিগ্ধ জোছনা এবং রোমান্টিক আবহ। যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে এই পূর্ণিমা নিয়ে রয়েছে নানা রকম কৌতূহল ও মিথ। অনেকেরই জোরালো বিশ্বাস, পূর্ণিমার রাতে মানুষের আবেগ বহুগুণ বেড়ে যায়, মন সংবেদনশীল হয়ে ওঠে কিংবা আচরণে খামখেয়ালিপনা দেখা দেয়। এমনকি চিকিৎসা জগতের অনেক নার্স ও চিকিৎসকও দাবি করে থাকেন যে, পূর্ণিমার রাতে হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে অস্থিরতা ও মানসিক বিচ্যুতির হার কিছুটা বেশি থাকে। তবে এই ধারণার পেছনে কি আদৌ কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, নাকি এটি নিছকই একটি জনশ্রুতি বা অন্ধবিশ্বাস—তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বেডরক রিকভারি সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. অ্যামি ফিটজপ্যাট্রিক এবং প্রখ্যাত মনোবিদ ডা. ম্যাক্স ডশের মতো বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তাঁদের মতে, বৈজ্ঞানিক দিক থেকে চাঁদের আকর্ষণের সঙ্গে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। বহু বছর ধরে এ বিষয়ে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালিত হলেও চাঁদের প্রভাবে মানুষের আবেগ পরিবর্তনের কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। গবেষকেরা পূর্ণিমার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের আচরণ ও মেজাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেও এমন কোনো নিদর্শন পাননি, যা নিশ্চিত করে যে চাঁদের আলো মানুষের মস্তিষ্কে কোনো বড় ধরনের হরমোনগত বা মানসিক পরিবর্তন ঘটায়।

তাহলে প্রশ্ন জাগে, মানুষ কেন আজও এমনটা বিশ্বাস করে? এর পেছনে রয়েছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা এবং ‘প্লেসিবো ইফেক্ট’। ডা. অ্যামি ফিটজপ্যাট্রিক ব্যাখ্যা করে বলেন, পূর্ণিমার রাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আবেগপ্রবণ মুহূর্ত তৈরি হলে মানুষ খুব সহজেই সেই ঘটনাকে চাঁদের সঙ্গে জুড়ে দেয়। কিন্তু অন্য সাধারণ দিনে একই ঘটনা ঘটলে তা কারও মনে দাগ কাটে না। মানুষের এই নির্বাচনী স্মৃতিশক্তির কারণে একটি ভ্রান্ত ধারণার জন্ম হয়। এছাড়া আমাদের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস বা পক্ষপাতিত্বও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। কেউ যদি মনে মনে ধরেই নেয় যে পূর্ণিমার রাতে তার মন খারাপ হবে, তবে সামান্য কোনো কারণে মন খারাপ হলেও সে পুরো দোষ চাঁদের ওপর চাপিয়ে দেয়। ডা. ম্যাক্স ডশ যোগ করেন যে, মানুষের মন খারাপের অনুভূতি হয়তো মিথ্যা নয়, কিন্তু তার চালিকাশক্তি চাঁদ নয়, বরং ওই বিশেষ রাত নিয়ে আমাদের অবচেতন মনের ভাবনা।

পূর্ণিমার রাতের সঙ্গে মানুষের আবেগের যোগাযোগের পেছনে আরেকটি শারীরিক কারণও থাকতে পারে, যা সরাসরি চাঁদের অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পূর্ণিমার উজ্জ্বল জোছনার আলো অনেক সময় জানাল ঘর ভেদ করে বিছানায় এসে পড়ে। এই আলো উপভোগ করতে গিয়ে কিংবা আলোর কারণে অনেকেরই রাতের স্বাভাবিক ঘুমের সময় ব্যাহত হয়। পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুমের ঘাটতি হলে পরদিন মানুষের মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ক্লান্তি এবং মন খারাপ লাগা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, চাঁদ সরাসরি মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ না করলেও, এর আলোর কারণে সৃষ্ট ঘুমের ব্যাঘাত পরোক্ষভাবে মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, মানুষের ক্ষেত্রে চাঁদের সরাসরি প্রভাব না মিললেও প্রাণীকুলের জীবনে চাঁদের আলো ও আকর্ষণের দৃশ্যমান ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রবাল পূর্ণিমার রাতের পর একসঙ্গে পানিতে ডিম ছেড়ে বংশবৃদ্ধি করে, কারণ এদের জিন আলো শনাক্ত করতে বিশেষভাবে সক্ষম। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আর্জেন্টিনার আজারার বানরের মতো নিশাচর প্রাণীরা পূর্ণিমার রাতে বেশি আলোর কারণে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে এবং পরদিন সকালে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, যা অমাবস্যার রাতে ঘটে না। এছাড়া শিকারি প্রাণীরাও জোছনার রাতে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে বা চলাফেরা সীমিত করতে বাধ্য হয়। সব মিলিয়ে, মানুষের আবেগের সঙ্গে চাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি মূলত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্বাস ও ঘুমের চক্রের জটিল এক মিশ্রণ ছাড়া আর কিছু নয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।