ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. বিশ্ব
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের ভয়াবহ হামলা: সারজিস আলম অবরুদ্ধ, রণক্ষেত্র শহর

banglaprime24
July 28, 2026 9:54 pm
Link Copied!

হবিগঞ্জ জেলা শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার একপর্যায়ে সারজিস আলম প্রাণরক্ষার্থে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত ছাত্রদল কর্মীরা তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় এনসিপি এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে নেতারা যখন তাদের গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউসের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই বিপত্তি ঘটে। স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছামাত্র আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িটি দ্রুত বেগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হলেও সারজিস আলমের গাড়িটি ঘেরাওয়ের মুখে পড়ে।

হামলা চলাকালীন সারজিস আলম দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকশ কর্মী ব্যাংক ভবনটি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং সরকার ও এনসিপি বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর পুলিশ সারজিস আলমকে কঠোর নিরাপত্তায় উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এই হামলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্টাফ কোয়ার্টার ও টাউন হল এলাকায় ছাত্রদলের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের জেরে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এনসিপির স্থানীয় নেতারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সরাসরি বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিরোধী শক্তি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, “এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে উসকানিমূলক এবং অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। এতে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা প্রতিবাদ জানায়।”

বর্তমানে হবিগঞ্জ শহর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আহতদের স্থানীয় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।