রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর দীর্ঘ প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে রংপুর জেলায় ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)। তিনি কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত আজমাইন পূর্বে থেকেই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের সেই বৈবাহিক পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে ওই কলেজছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। শুরুতে তরুণী রাজি না হলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগের ফলে উভয়ের মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত আজমাইন ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর আদালত সংলগ্ন একটি লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাঁকে জানানো হয় যে তাঁদের আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর হারাগাছ এলাকার ধুমগড়ার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাত কাটান আজমাইন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিয়ের মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের পর তরুণী যখন কাবিননামা বা বিয়ের আনুষ্ঠানিক আইনি কাগজ দেখতে চান, তখন অভিযুক্ত আজমাইন নানা বাহানায় তা এড়িয়ে যেতে থাকেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল ওই কলেজছাত্রী সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি আজমাইনের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন আজমাইন আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী ও সংসার রয়েছে। ফলে তিনি এই তরুণীকে আইনগতভাবে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তরুণী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাঁকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এমনকি তাঁকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়ে গোপনে ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান।
ভুক্তভোগী তরুণী ন্যায়বিচার চেয়ে গত ৬ মে রংপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ১২ মে হারাগাছ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের বিষয়টি টের পেয়েই অভিযুক্ত আজমাইন দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতে শুরু করেন এবং পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা চালান। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গত দুই মাস ধরে নিবিড় ছায়া তদন্ত ও নজরদারি চালিয়ে আসছিল। অবশেষে র্যাব-১-এর সহযোগিতায় ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে হারাগাছ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সচেতন মহল এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

