দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান যে, বর্তমান সংকট উত্তরণে বাংলাদেশকে সাধ্যমতো সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কুয়ালালামপুর। বিগত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের গৃহস্থালি রান্না থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্প কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি বিশেষ চিঠি পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুয়ালালামপুর সফরকালে ওই চিঠিটি সরাসরি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারপ্রধান টেলিফোনে দ্বিপক্ষীয় আলাপচারিতায় অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান যে, কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই সহযোগিতার রূপরেখা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় অবস্থান করছে। এলএনজি আমদানির পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা বিনিময় এবং অন্যান্য জ্বালানি সহায়তার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার সমান্তরাল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এক্সিলারেট এনার্জির রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাসেমের সাথে সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি বা এফএসআরইউ টার্মিনালটি দ্রুত মেরামত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কোম্পানির প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই টার্মিনালটি পুনরায় সচল হবে এবং গ্যাস সরবরাহ লাইনে যুক্ত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় চাহিদা প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট, বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২.৭ বিলিয়ন ঘনফুট। সম্প্রতি একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বিস্ফোরণের অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে প্রতিদিনের সরবরাহ আরও প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে চরম রূপ দেয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটির মেরামত কাজ শেষ হলে দৈনিক সরবরাহ প্রায় ৩.১৫ বিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত উন্নীত হবে, যা চলমান জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করবে। তবে তা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থেকেই যাবে।

