আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার এই কার্যক্রমে গতি আনতে এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ তদারকি করতে নতুন করে ১৫৪ জন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মকর্তা খুব শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
গত কয়েক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে খসড়া তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এই খসড়া তালিকায় যাতে কোনো ধরনের মৃত ভোটার, দ্বৈত ভোটার বা স্থানান্তরিত ভোটার অন্তর্ভুক্ত না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা মূলত খসড়া তালিকার ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির কাজে স্থানীয় নির্বাচন অফিসগুলোকে সহায়তা করবেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা। অতীতে ভোটার তালিকায় নানা ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠায় এবার নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাগরিকদের পক্ষ থেকে কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা এই দাবিগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। নাগরিকরা নির্ধারিত ফরম பூরণ করে তথ্য সংশোধন বা নতুন অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি নিশ্চিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য রোধ করতেই অতিরিক্ত এই ১৫৪ জন কর্মকর্তাকে মাঠে নামানো হয়েছে। কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

