অনলাইন ডেস্ক, banglaprime24
ঢাকা, ১৭ জুলাই ২০২৬:
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর নজিরবিহীন ও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালিজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণ
ইরানের স্থানীয় সূত্র ও বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাতভর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসীরা চরম আতঙ্ক ও বিস্ফোরণের শব্দের মধ্য দিয়ে রাত কাটিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সিরিক বন্দর এবং দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান প্রদেশের চাবাহার, কোনারাক ও রাস্ক শহর থেকেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত খোররামাবাদ শহরেও অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি
এদিকে, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9) ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটি সফলভাবে ধ্বংস করেছে ইরানি বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সেন্টকমের বক্তব্য ও অভিযানের বিবরণ
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ দফার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, মাত্র ৯০ মিনিটের এক বিশেষ অভিযানে ‘গ্রেটার টুনব’ দ্বীপের ইরানি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানায় মার্কিন বাহিনী।
ট্রাম্পের ৬০ দিনের ‘যুদ্ধ চালুর’ ঘোষণা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) সই হলেও গত ৭ জুলাই থেকে আবারও নতুন করে হামলা শুরু করে ওয়াশিংটন।
মার্কিন গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সাথে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের আগাম অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানে এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে।
তবে হামলা-পাল্টা হামলা চললেও ও হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এবং সংকট সমাধান করা এখনো সম্ভব।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

