দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সার্বজনীন ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের রোগী হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা মুহূর্তেই তাদের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত ইতিহাস ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন। এর ফলে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া যেমন দ্রুততর হবে, তেমনি চিকিৎসাসেবা আরও নির্ভুল ও সমন্বিত রূপ লাভ করবে।
চীনের শি’আনে আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ– টুওয়ার্ডস অ্যা নিউ কো-অপারেটিভ ইকোসিস্টেম অ্যালং দ্য সিল্ক রোড’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো চিকিৎসাসেবার বৈষম্য দূর করা। রাজধানী ঢাকার কোনো আধুনিক বা বিশেষায়িত হাসপাতালের রোগীরা যে মানের চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন, দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকার একজন সাধারণ মানুষও যেন ঠিক একই মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনার আওতায় স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ চলছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সমান্তরালে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থাই টেকসই হতে পারে না। তাই একটি শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার কাজও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। এছাড়া সরকার বর্তমানে একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নের কাজ করছে, যার মূল ভিত্তি হবে মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্স (ডব্লিউআইসি) বা উঝেন সামিট সচিবালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সিল্ক রোড ফোরামটিতে চীন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতৃত্ব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ২১ ও ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া এবং ব্রাজিলের মতো দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

