ঢাকাSaturday , 1 August 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পশ্চিমবঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চর্চা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে চাঞ্চল্য

banglaprime24
August 1, 2026 9:14 pm
Link Copied!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন ও অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটেছে। বিশিষ্ট ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে রাজ্যে পুনরায় ফিরে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই আমন্ত্রণের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাহিত্য ও বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

তসলিমা নাসরিন দীর্ঘকাল ধরেই পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের কলকাতায় প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ১৯৯৪ সালে মৌলবাদী মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে ভারত সরকার তাকে আশ্রয় দেয়। দীর্ঘদিন কলকাতায় বসবাস করলেও ২০০৭ সালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার জেরে তাকে কলকাতা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে তিনি মূলত প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন এবং দিল্লির সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় বা বিদেশে অবস্থান করছেন। একাধিকবার তিনি কলকাতায় নিজের পৈতৃক ভিটায় বা চেনা শহরে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আমন্ত্রণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানায় তসলিমা নাসরিনকে রাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের একাংশ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও, রাজ্যের একটি বড় অংশ মনে করছে এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

লেখিকার নিজস্ব প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, তিনি বহুবার পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা রাখার আকুলতা প্রকাশ করেছেন। কলকাতার সংস্কৃতি, কফি হাউসের আড্ডা এবং তার পাঠকদের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের কথা তিনি বারবার সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক বা নীতিবাচক বার্তার পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত শঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের বাকস্বাধীনতা ও লেখক-সাহিত্যিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে উস্কে উঠেছে। সাহিত্যপ্রেমী এবং মুক্তমনা মানুষেরা মনে করছেন, একজন লেখকের নিজের পছন্দমতো জায়গায় বসবাসের অধিকার থাকা উচিত। অন্যদিকে, কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণের তীব্র প্রতিবাদের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, তসলিমা নাসরিনের সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ প্রত্যাবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি যে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।