শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান কার্যালয়ে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সরিয়ে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে তার পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই প্রশাসনিক রদবদল কার্যকর করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রকৌশলী আলী ইমাম রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদে যোগদান করেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ অধিশাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশের মাধ্যমে পদায়নের এই আদেশ জারি করা হয়। প্রধান কার্যালয়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করা ও বিতর্কমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই শাহজাহান আলীকে সরিয়ে চট্টগ্রাম সার্কেলের দায়িত্ব সামলানো আলী ইমামকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগের চলতি দায়িত্বে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অনুমোদিত পদের সংখ্যা মোট ১২টি। এর মধ্যে ৯টি বিভিন্ন আঞ্চলিক সার্কেলে এবং বাকি ৩টি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসনিক ও কারিগরি অধিশাখায় অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পদ শূন্য না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে পাঁচজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে একসাথে চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সেই তালিকায় চার নম্বরে থাকা শাহজাহান আলীকে প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখায় পদায়ন করা হলে সে সময় ইইডির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইইডি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের ফাইল আটকে রেখে অসাধু সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে। বেশ কিছু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের সাথে তার রাজনৈতিক ঘনিষ্টতা এবং যৌথ ছবি প্রকাশের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসে, যা প্রশাসনিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তিকে সংক্ষুব্ধ করে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ওএসডি হওয়া প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী দাবি করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সফররত মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রটোকল দেওয়া এবং শুভেচ্ছা জানানো প্রশাসনিক রীতি। স্থানীয় পর্যায়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোলা পুরোনো ছবিগুলোকে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতের দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বিতর্কিত ও অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জোরদার করা হয়েছে।
ইইডির সিনিয়র এক কর্মকর্তাকে ওএসডি করার পর অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শাহজাহান আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বদলি এবং বিভাগীয় তদন্তের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অন্যান্য স্তরেও শিগগিরই আরও রদবদল আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

