ঢাকাFriday , 31 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিমন্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি/ভিডিও এআই সৃষ্ট নয়

banglaprime24
July 31, 2026 11:06 am
Link Copied!

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত অন্তরঙ্গ আংশিক ছবি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে পঞ্চগড় ও ঢাকার একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সাথে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ২০ সেকেন্ডের শব্দহীন ভিডিও, ৫টি ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট যাচাইয়ের জন্য সংগ্রহ করেছে দ্য ডিসেন্ট। সংগ্রহকৃত ছবি ও ভিডিওর রেজুলেশন সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবি ও ভিডিওর চেয়ে বেশি।

সংগৃহীত সবগুলো ছবি ও ভিডিও এআই কন্টেন্ট চিহ্নিতকরণে ব্যবহৃত একাধিক টুল দিয়ে যাচাই করলেও কোনটিতেই ছবি ও ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

অধিকতর অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দ্য ডিসেন্ট সংগৃহীত ছবি ও স্ক্রিনশটগুলো বিশ্লেষণ করে আরও কিছু তথ্য পেয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলোর একটিতে একজন নারীর শাড়ি পরিহিত ছবি এবং একটি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দেখা যায়।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এপ থেকে দেখা যায়, আলোচ্য মোবাইল নম্বরে যে বিকাশ পারসোনাল একাউন্ট রয়েছে সেটির অমুসলিম এক নারীর নামে (নামটি দুই শব্দের)। ওই নারীর বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করলে দেখা যাচ্ছে তার বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের সেই গ্রামে যেটি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনেরও গ্রাম। ওই নারীর জন্ম ১৯৯৫ সালের জুন মাসে।

এরপর ওই মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করার পর একজন নারী রিসিভ করেন এবং তার নাম জানান, যা বিকাশ একাউন্ট যার নামে সেটির সাথে মিলে যায়।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে এই নম্বরটি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তাকে জানানো হয়, ওই কথোপকথনে একজন শাড়ি পরা নারীর ছবি দৃশ্যমান। জানতে চাওয়া হয়, ছবিটি যাচাইয়ের জন্য তার কাছে হোয়াটসআ্যাপের পাঠানো যাবে কিনা? তিনি অনুমতি দিলে ছবিটি পাঠানোর পর ওই নারী জানান, ছবিটি তারই।

তবে তিনি বলেন, তার ছবি সেখানে কীভাবে এলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

যদিও দ্য ডিসেন্ট ছবিটিতে এআইয়ের কারসাজির কোন প্রমাণ পায়নি একাধিক টুলে যাচাই করে।

এরপর ওই নারীকে জিজ্ঞেস করা হয় ভাইরাল হওয়া ছবি/ভিডিও বা স্ক্রিনশটগুলোর বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন কিনা।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তাকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদকে চেনেন কি না। তার উত্তর ছিল,  “একজন এমপিকে চিনবো না কেন।”

তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে নারী জানান, তিনি বর্তমানে পড়াশোনা করছেন এবং চাকরি খুঁজছেন। বাসার ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের বাড়ি বোদা উপজেলার যে গ্রামে, সেখানেই ওই তরুণীর বাড়ি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, তরুণীর বাবা নেই, মা ও এক ভাই আছেন, যিনি এলাকায় অটোরিকশা চালান এবং কৃষি কাজ করেন।

ওই নারীকে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করেন এমন প্রতিবেশী এক অমুসলিম ছাত্র (যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন) দাবি করেছেন, তিনি শুনেছেন ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর ওই নারীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন।

২৮ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯:৩০ থেকে ৯:৩২ মিনিট এবং ৯:৪৪ থেকে ৯:৪৯ মিনিট পর্যন্ত দুই দফায় দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ওই নারীর।

এরপর রাত ১০:০২ মিনিটে এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ০১৭০৭ সিরিয়ালের একটি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে এবং নাম ভেসে ওঠে ‘FORHAD HOSSAIN AZAD’। একবারই কল এসেছে ওই নম্বর থেকে। এই প্রতিবেদকের সাথে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কোন পূর্ব পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না এবং এই প্রতিবেদক যে এই ছবি ও ভিডিও যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন তা ওই নারীর সাথে যোগাযোগের আগে অন্য কারো সাথে আলোচনা করেননি।

প্রতিবেদক তখন কল রিসিভ না করে আজ বুধবার সকালে ওই নম্বরে কল করেন। রিসিভ না হওয়ায় প্রতিবেদক হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়ে রাখেন এবং এরপর ওপর প্রাপ্ত থেকে কল আসে। প্রতিবেদক রিসিভ করে কুশল বিনিময়ের পর জানতে চান এটি কি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নম্বর কিনা? তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। গত রাত ১০টার পরপর ফোন দেয়ার কথা স্বরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, “আসেন, আমার দপ্তরে আসেন, চা খাই।”

এরপর সংযোগ সমস্যার কারণে কলটি কেটে যায়। পরবর্তীতে ফোন করলে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কেটে দেন ফরহাদ হোসেন।

 

প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল নম্বরটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন নম্বরের তালিকায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নামের পাশে উল্লেখ করা আছে।

আজ বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ওই নারীকে আবারও প্রশ্ন করা হয়েছিল, গত রাতে আপনার সাথে কথা বলার ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী কল দিয়েছিলেন। উনাকে মোবাইল নম্বরটি কি আপনি দিয়েছিলেন?

জবাবে তিনি বলেন, “না না ভাইয়া, আমি কেন নম্বর দিতে যাব। আর আমার একটা ছবি বা নম্বর কোথাও পাওয়া গেলে এই যুগে এত চিন্তিত হওয়ার তো কিছু নাই। আমি পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।”

এদিকে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় মোবাইল দিয়ে সেলফি তুলছেন। তার মোবাইলের যে কভার দেখা যাচ্ছে একইরকম কভারযুক্ত মোবাইল নিকট অতীতে ফরহাদ হোসেন ব্যবহার করেছেন। সেরকম ছবি তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে রয়েছে।

Source: The dissent

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।