টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢাকা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ‘ক্রাউন ডিলাক্স’ পরিবহনের ওই যাত্রীবাহী বাসটি রক্তিপাড়া ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অন্তত সাতজন যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বাকি আহতরা মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের মহাসড়কগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে বালু পরিবহন এবং বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল রোধ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে মহাসড়কে প্রাণহানির এই মিছিল কমানো সম্ভব নয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

