ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, ‘সরকার কীভাবে এ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কিছুই না করা মানে, আপা (শেখ হাসিনা) আর ভাইয়া (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) এক হয়ে গেছে।’
বুধবার (০৬ আগস্ট) শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনা কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন? সরকার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ডেকে জানতে চাইতে পারে, কীভাবে এ সুযোগ দেওয়া হলো।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন। সরকার চাইলে তাদের ডেকে জানতে পারে, তাদের সমস্যা কোথায়। একটি সন্ত্রাসীকে (শেখ হাসিনা) কেন তাদের দেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।’
সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারলে ভারতের সেভেন সিস্টারস অঞ্চলের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নেতাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসুক। কিছু তো করবে সরকার। কিন্তু তারা কিছুই করছে না। আর কিছুই না করা মানে, আপা (শেখ হাসিনা) আর ভাইয়া (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) এক হয়ে গেছে।’
এর আগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনেকে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিলো- এটি আমাদের প্রশ্ন।’
তার আগে বুধবার দিল্লির প্রেস ক্লাবে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছিল একেবারেই নতুন ঘটনা।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং নিজের বিরুদ্ধে হওয়া বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, এমন একটি দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে। ঢাকা অভিযোগ করে, এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি অবমাননা।

