ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়ার মহাস্থানগড় ভ্রমণ: এক ছাদের নিচে আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন ও স্মৃতির রোমন্থন

banglaprime24
July 23, 2026 8:00 pm
Link Copied!

পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে এবং দৈনন্দিন যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে ভ্রমণ সবসময়ই একটি কার্যকরী মাধ্যম। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ায় ছোট খালামণির বাসায় এক আনন্দদায়ক পারিবারিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সাংবাদিকতার পাতায় এক অনন্য স্মৃতি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এই ভ্রমণ কেবল একটি দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনই ছিল না, বরং এটি ছিল আত্মীয়স্বজনের মেলবন্ধন, শৈশবের নস্টালজিয়া এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়ার এক অপূর্ব সুযোগ।

ভ্রমণের দিন সকালে সিরাজগঞ্জ থেকে বাবা, মা, ছোট বোন এবং এই প্রতিবেদক ট্রেন বা বাসের পরিবর্তে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রওনা হয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা গন্তব্যে পৌঁছান। তবে ভ্রমণের আগের রাতে পারিবারিক একটি ছোট মনোমালিন্যের কারণে বাবা তাদের বগুড়ায় নামিয়ে দিয়ে একাকী শহর ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। এই ছোটখাটো মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব সত্ত্বেও ভ্রমণের মূল পরিকল্পনা ও উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। খালামণির বাসায় পৌঁছানোর পর ঐতিহ্যবাহী সব সুস্বাদু খাবারে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। হাঁসের মাংস ভুনা, চিংড়ি মাছ, পটল ভাজি, মুরগির মাংস এবং লালশাকের মতো দেশীয় পদের সমাহার মুহূর্তেই ক্লান্তি দূর করে দেয়।

দুপুরের খাবারের পর বগুড়ায় বসবাসরত ছোট মামা ও তাঁর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হলে সবাই মিলে একটি জমজমাট পারিবারিক আড্ডার পরিবেশ তৈরি হয়। সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক স্থান ‘মহাস্থানগড়’ ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ছোট খালা, মামা, মামিসহ মোট দশজনের এই দলটিতে দুই জন ছোট বাচ্চাও ছিল। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি, ফল ও হালকা খাবার সঙ্গে নিয়ে দলটি একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে মহাস্থানগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। বাসের বদলে সিএনজি বেছে নেওয়া এবং একটিমাত্র গাড়িতে দশজন গাদাগাদি করে বসার সেই অভিজ্ঞতাটি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও কিছুটা কষ্টকর, যা দীর্ঘ ৪০ মিনিটের যাত্রাকে যেন দীর্ঘতম করে তুলেছিল। তবে এই শারীরিক অস্বস্তি ও ক্লান্তি ঢাকতে গাড়ির ভেতরে চলতে থাকে অবিরাম গান, হাসি ও গল্প।

মহাস্থানগড়ে পৌঁছানোর পর দলের সবাই প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। গোকুল মেধ, পরশুরামের প্রাসাদ, মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, বৈরাগীর ভিটা, পুণ্ড্রনগর ঐতিহাসিক দুর্গপ্রাচীর, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা এবং হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহি সাওয়ার (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তারা সমৃদ্ধ হন প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে। দীর্ঘ ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যার দিকে দলটি মামার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং ফেরার পথে কিনে নেয় মহাস্থানগড়ের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘কটকটি’।

ফেরার পথেও একই সিএনজিতে গাদাগাদি করে বসার সেই পুরোনো কষ্ট ফিরে এলেও মামার ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি মেলে। মামার বাসায় পৌঁছানোর পর উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সুস্বাদু রাতের খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনটির সমাপ্তি ঘটে। একদিকে বাবা ও ছোট খালুর অনুপস্থিতির কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, পুরো দিনের এই ভ্রমণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসাকে আরও গভীর করেছে। কষ্টের মধ্যেও লুকিয়ে থাকা এই আনন্দের স্মৃতি প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।