ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলের কৌশলগত নীতিই অনুসরণ করছেন বর্তমান ব্রিটিশ প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে লন্ডন তার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকারের নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক সুবিধা ব্যবহারের সবুজ সংকেত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যকার ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা যে অক্ষুণ্ণ রয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকরা।
তবে এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কিংবা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নীরবতা বজায় রাখা হলেও কূটনৈতিক মহলে এই নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনার পারদ চড়ে থাকার সময় ব্রিটিশ ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা মার্কিন অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই নীতিগত ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও মার্কিন মিত্রতার প্রশ্নে লন্ডনের মূল বৈদেশিক নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিজেদের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করতে ব্রিটেন এই অবস্থান নিয়েছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক রাজনীতি এবং তেহরান-লন্ডন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

