খুলনা মহানগর যুবদলের সদ্য ঘোষিত ৩১টি ওয়ার্ডের আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করা পরীক্ষিত কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে বিতর্কিত ব্যক্তি, মাদক কারবারে অভিযুক্ত এবং বিগত সরকারের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে নগর বিএনপির তৃণমূল কাঠামোতে এক ধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ৩১টি ওয়ার্ডের যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই পদ বঞ্চিত ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, নতুন কমিটিতে এমন বহু ব্যক্তিকে স্থান দেওয়া হয়েছে যাদের বিগত দিনে দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। উপরন্তু, স্থানীয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মুখগুলোকে রাতারাতি যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ উপহার দেওয়া হয়েছে।
বঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ, ত্যাগী কর্মীদের পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও পকেট কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে এই পদায়ন করা হয়েছে। যেসব নেতাকর্মী বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের অনেককেই নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি কিংবা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের রাজপথের সৈনিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা এই কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে গণপদত্যাগের হুশিয়ারিও দিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে খুলনা মহানগর যুবদলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সাংগঠনিক নিয়মাবলী মেনে এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। যদি কোনো ওয়ার্ডের কমিটিতে চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি কিংবা অনুপ্রবেশকারীদের স্থান পাওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটি সংশোধন করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ দ্রুত প্রশমিত না করা গেলে খুলনা মহানগরীতে যুবদলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সব পক্ষকে নিয়ে বিতর্ক নিরসন করা অত্যন্ত জরুরি।

