তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিনোদন জগতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এইচ বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির মাধ্যমে বিজয়ের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, যা তাঁর ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সিনেমাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের উন্মাদনার মাঝেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে বিজয়ের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক না বলা অধ্যায়। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিষেক চলচ্চিত্র ‘নালাইয়া থিরপু’র পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে যে কঠিন সময় তিনি পার করেছিলেন, তা স্মরণ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অভিনেতা সঞ্জীব।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা সঞ্জীব জানান, বিজয়ের জীবনের সেই কঠিন মুহূর্তে হতাশা আর কষ্টের চিত্রটি আজও তাঁর মনে স্পষ্ট। তরুণ বয়সে বড় পর্দায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে গিয়ে বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর পরিচালিত ‘নালাইয়া থিরপু’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন বিজয়। কিন্তু মুক্তির পর একটি প্রভাবশালী চলচ্চিত্র ম্যাগাজিনে ছবিটির অত্যন্ত কঠোর ও নেতিবাচক সমালোচনা করা হয়। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা নবাগত বিজয় এই প্রথম আঘাতটি সহ্য করতে পারেননি। সঞ্জীবের ভাষ্যমতে, ওই দিন রাতে অঝোরে কেঁদেছিলেন বিজয় এবং সমালোচনার মাত্রা তাঁর মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। একজন নবাগত তরুণের জন্য এমন বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করা কতটা মানসিক চাপের ছিল, তা বলাই বাহুল্য।
তবে সময়ের প্রবাহে সেই অনভিজ্ঞ তরুণই নিজের অদম্য জেদ, কঠোর পরিশ্রম এবং সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে তামিল সিনেমার অবিসংবাদিত ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি হয়ে ওঠেন। সঞ্জীব আরও উল্লেখ করেন, যে ম্যাগাজিনটি একসময় নবাগত বিজয়ের কঠোর সমালোচনা করেছিল, পরবর্তী সময়ে তারাই বিজয়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কথা স্বীকার করে তাঁর ছবি প্রচ্ছদে ছাপানোর অনুমতি চেয়েছিল—যা ছিল এই অভিনেতার সুদীর্ঘ লড়াইয়ের এক দারুণ স্বীকৃতি। অভিনয় জীবনকে বিদায় জানিয়ে এখন পুরোপুরি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকা বিজয় তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ ছবিতেও দর্শকদের আবেগ ও উন্মাদনাকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটি যুগের অবসান ঘটাচ্ছে।

