ঢাকাThursday , 23 July 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. খেলাধুলা
  3. জাতীয়
  4. তথ্য-প্রযুক্তি
  5. বানিজ্য
  6. বিনোদন
  7. বিশ্ব
  8. রাজনীতি
  9. লাইফস্টাইল
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোরালো দাবি ৬৩ বিশিষ্টজনের

banglaprime24
July 23, 2026 8:12 pm
Link Copied!

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৬৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি। তাঁদের মতে, গণরায়ের প্রতি অবহেলা এবং রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা বা অনিশ্চয়তা পুরো রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনেরা এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। এতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের রূপরেখা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এর প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও নির্ধারিত সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেন যে, জুলাইয়ের এই গণ-অভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক পালাবদল নয়; বরং এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং নাগরিক অধিকারের পরিসরকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা। জনগণের এই যৌথ আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। তাঁরা মনে করেন, সংসদীয় রাজনীতির সাংবিধানিক গুরুত্বের পাশাপাশি গণ-আন্দোলনের অন্তর্নিহিত স্পিরিট ও জনগণের মৌলিক চাহিদাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে দেশে প্রতিক্রিয়াশীল ও অগণতান্ত্রিক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক শূন্যতা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক বিকাশ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও সার্বিক সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংকট উত্তরণে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, জুলাই সনদের পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনতিবিলম্বে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্বমূলক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, যেকোনো দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

পরিশেষে, দেশের আপামর জনসাধারণ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শে বিশ্বাসী সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে সজাগ ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক মো. আবুল বাশার, মানবাধিকার কর্মী ও গবেষকসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।