নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আল আমিন (২৫) নামের সদ্য বিবাহিত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কের ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের কোটের বাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন কাতার প্রবাসী ছিলেন এবং মাত্র তিন দিন আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আল আমিন নিজের মোটরসাইকেলে চড়ে ছাতারপাইয়া থেকে সোনাইমুড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কের কোটের বাড়ি নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ইজিবাইকের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সরাসরি পিচঢালা সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আল আমিনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে ছাতারপাইয়ার একটি স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রাপ্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল আমিন সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার থেকে দেশে ফেরেন। গত সোমবার তাঁর জমকালো আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। আনন্দ-উৎসব মুখরিত বাড়িটিতে গতকাল পর্যন্তও আত্মীয়স্বজনদের ভিড় ছিল। কিন্তু একটি আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনা সব আনন্দ নিমিষেই বিষাদে রূপান্তর করে দিয়েছে। আল আমিনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অন্তিম আর্তনাদ ও কান্নায় ছাতারপাইয়া এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় লোকজনকে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দেশের সড়কগুলোতে প্রায়ই এমন অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ, যা নিয়ে সচেতনমহল ও স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

